যাহারে খুঁজি আমি
দেখি আমি তাহারে,
দেখি আমি নিজের মাঝে
তবেই হই আমি বিশ্বময়।
বস্তুত শুদ্ধ অস্তিত্ব কখনোই বিশ্বময় হতে পারে না। অস্তিত্ব যা সীমাবদ্ধতার মধ্যে পড়ে। আমি অস্তিত্ব বলতে ব্যক্তিমাত্রকে বলেছি। আমি অস্তিত্ব বলতে মানব দেহ কাঠামোকে বুঝেছি। দেহ গঠনের বিষয় আকাশ কেবলই সীমাবদ্ধ, যা অসীমতার মধ্যে প্রবেশ করতে পারে না। দেহ সসীম, যা আমি বের হতে সক্ষম হয়েছি। দেহের অন্ধকারেই আমি সত্তা লুকিয়ে আছে। অনেকেই এই দেহ আর সত্তা বা পরমাণুকে পৃথক জ্ঞান করতে পারে না, যার জন্য বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যায়।
সাধনার মাধ্যমে অতি সূক্ষ্মভাবে দেহের বন্ধনগুলো দেখা যায়। যা কেবলই একজন নিখুঁত আর অভিজ্ঞ মুর্শিদ দর্শন করতে পারেন। মুর্শিদ তিনিই যিনি নিজেই এক বিশ্বময়। যিনি অস্তিত্বহীন। কম করে হলেও মুর্শিদ তার আপন অস্তিত্বে পরম সত্তার প্রকাশ ঘটাতে সক্ষম থাকতে হবে। তা না হলে পরম সত্তার পরিচয় জানা কিংবা অন্যকে জানানো অসম্ভব হয়ে যাবে। দেহ আর আত্মা অনেক দূরত্বে অবস্থান করে থাকে। যেমন সূর্য আর পৃথিবী।
দেহ সে তো ঘুটঘুটে অন্ধকার। এই অন্ধকারের জন্যই নিজ সত্তার স্বরূপ দেখা যায় না। আমি সৌভাগ্যবান। আমার মুর্শিদের কৃপাতে দেহ হতে আমার আত্মাকে পৃথক করতে সক্ষম হয়েছি। আমি বিশ্বময় অর্থাৎ আমার পরমাণুর স্ব-রূপ বিশ্বময়। আমি দেখেছি আমার আত্মার সঙ্গেই জড়িয়ে হয়ে আছে পুরো সৃষ্টি। আমি সৃষ্টির প্রতিটি অধ্যায়ে আমাকে খুঁজে পেয়েছি। মনে রাখতে হবে “আমি” বলতে আমার ব্যক্তিমাত্র নয়। ব্যক্তিমাত্র কখনোই বিশ্বময় হতে পারে না। বিশ্বময় কেবলই পরমাণু। আমি আমার পরমাণু বা পরম সত্তাকে দেখেছি।
শাশ্বত রূপে তথা বিশ্বময় রূপে। এটা তখনই দৃষ্টিমান হবে সার্থক যখন জ্ঞানাতে স্থিতি লাভ করবে। ফানা ব্যতীত আপন সত্তার বিশ্বরূপ দর্শন অসম্ভব। আর পরম সত্তা আমার মাঝে আছে বলেই আমি বিশ্বময় রূপে দর্শন করেছি। পরম সত্তা ব্যতীত আমি মূল্যহীন, অন্ধকার।